কোকা-কোলার কফি চেইন কোস্টা কফি বিক্রি প্রক্রিয়ায় অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে। বর্তমানে প্রাইভেট ইকুইটি প্রতিষ্ঠান টিডিআর ক্যাপিটালের সঙ্গে শেষ মুহূর্তের আলোচনা রয়েছে সফট ড্রিংকস জায়ান্টটি। খবর এফটি।
বিষয়টির সঙ্গে পরিচিত সূত্রগুলো জানিয়েছে, নিউইয়র্কে কোকা-কোলার পরিচালনা পর্ষদের বৈঠকের পরই টিডিআরকে কোস্টা কফির পছন্দের ক্রেতা হিসেবে বেছে নেয়া হয়। টিডিআর যুক্তরাজ্যের সুপারমার্কেট চেইন অ্যাসডার মালিক। তবে দাম নিয়ে মতবিরোধে কোকা-কোলা ও এর আর্থিক পরামর্শক লাজার্ডের সঙ্গে টিডিআরের আলোচনা আটকে গেছে।
সূত্রগুলোর ভাষ্য অনুযায়ী, কোস্টা কফি বিক্রির প্রক্রিয়া পুরোপুরি স্থগিত করা হবে কিনা সে বিষয়ে আগামী সপ্তাহে সিদ্ধান্ত নেবে কোকা-কোলা।
আলোচনায় থাকা প্রস্তাব অনুযায়ী, কোস্টা কফিতে আংশিক অংশীদারত্ব রেখে দিতে পারে জায়ান্টটি। অংশীদারত্বের পরিমাণ বাড়ানো-কমানোর সুযোগও রাখা হয়েছে।
কোস্টা কফির জন্য কোকা-কোলার প্রত্যাশিত মূল্য প্রায় ২০০ কোটি পাউন্ড। অথচ ২০১৮ সালে যুক্তরাজ্যের হুইটব্রেডের কাছ থেকে কোস্টা কফি কিনতে জায়ান্টটির খরচ হয়েছিল ৩৯০ কোটি পাউন্ড।
কোস্টা কফি অধিগ্রহণের পর থেকেই ব্যবসায়িক চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছে কোকা-কোলা। স্বাধীনভাবে পরিচালিত ক্যাফে ও গ্রেগসের মতো বড় পরিসরের কফি এবং খাবার চেইনের সঙ্গে প্রতিযোগিতা বেড়েছে। একই সময়ে কফি বিনের দাম, কর্মীদের মজুরি ও অন্যান্য পরিচালন ব্যয় বাড়তে থাকায় প্রতিষ্ঠানের আর্থিক অবস্থার অবনতি হয়েছে।
যুক্তরাজ্যের করপোরেট রেজিস্ট্রার ও আর্থিক তথ্য সংরক্ষণকারী সংস্থা কোম্পানিজ হাউজের সর্বশেষ হিসাব অনুযায়ী, ২০২৩ সালে কোস্টা কফির আয় ছিল ১২০ কোটি পাউন্ড। ওই বছর প্রতিষ্ঠানটি ১ কোটি ৩৮ লাখ পাউন্ড লোকসান করেছে।
টিডিআর কোস্টা কফির যুক্তরাজ্য ও অন্যান্য দেশের ব্যবসা কিনতে আগ্রহী। তবে চীনের কার্যক্রম এ প্রক্রিয়ায় বাইরে রাখা হচ্ছে।
কোস্টা কফি বিক্রির নিলাম প্রক্রিয়ায় আরো কয়েকটি প্রতিষ্ঠান অংশ নিয়েছিল। এর অন্যতম বেইন ক্যাপিটাল। চীনের লাকিন কফির মালিক সেন্টুরিয়াম ক্যাপিটালও আলোচনায় ছিল। তবে প্রাইভেট ইকুইটি প্রতিষ্ঠান অ্যাপোলো ও কেকেআর এরই মধ্যে আলোচনা থেকে সরে গেছে।
কোস্টা কফি বিক্রি সম্পর্কে কোকা-কোলা, টিডিআর ও লাজার্ড কোনো মন্তব্য করেনি।